ধানমন্ডি লেক Dhanmondi Lake

0
72


ঢাকার ব্যস্ত নগর জীবনের ভিড়ে ধানমন্ডি লেক যেন এক নিঃশ্বাসে স্বস্তি নেওয়ার জায়গা। শহরের বুকে অবস্থিত এই লেক শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের আবেগ। সবুজে ঘেরা পরিবেশ, পরিষ্কার নীল পানি, হাঁটার প্রশস্ত পথ, নৌকা ভ্রমণ, ঝুলন্ত সেতু, রবীন্দ্র সরোবর, স্থানীয় খাবারের দোকান এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি—সব মিলিয়ে এটি ঢাকার মানুষের জন্য এক অনন্য বিনোদন ও ইতিহাসের কেন্দ্র।

ধানমন্ডি লেক ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে শুধুমাত্র লেখা পড়ে পুরোপুরি অনুভব করা সম্ভব নয়। এই কারণেই আমরা পুরো ভ্রমণটি ভিডিও আকারে ধারণ করেছি, যেখানে আপনি লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নৌকাভ্রমণ, ঝুলন্ত সেতু, রবীন্দ্র সরোবরের সাংস্কৃতিক পরিবেশ, পথশিল্পীদের সুর, এবং বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাস্তবের মতো দেখতে পাবেন। ব্লগে আমরা ভিডিওর লিংক বা এম্বেড যুক্ত করব, যাতে পাঠকরা বসে থেকেই ধানমন্ডি লেকের প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করতে পারেন। তাই পুরো অভিজ্ঞতা দেখতে অবশ্যই ইউটিউবে ভিডিওটি দেখে নিন, যেখানে চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে ঢাকা শহরের এই প্রাণকেন্দ্র।

ধানমন্ডি লেকের পুরনো ইতিহাস থেকে বর্তমান

ঢাকার ১৮৫৯ এবং ১৯২৪ সালের মানচিত্রে ধানমন্ডির কাছে একটি বিশাল জলাশয়ের অস্তিত্ব দেখা যায়। এই জলাশয় বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত ছিল এবং মূলত ‘কারওয়ান বাজার নদী’ নামে পরিচিত একটি নদীর পরিত্যক্ত শাখা ছিল। প্রাচীন নাম ছিল ‘ক্যারাভান নদী’। এর প্রবাহ বেগুনবাড়ি খাল–গ্রীন রোড–কালাবাগান–ধানমন্ডি হয়ে তুরাগ নদীতে গিয়ে মিলত।

শহরের উন্নয়ন ও লেকের রূপান্তর

শহরের জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এবং নতুন আবাসিক এলাকা তৈরির কারণে জলাশয়ের বড় অংশ ভরাট হয়ে যায়। ১৯৫৬ সালে পরিকল্পিত ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার সময় প্রায় ১৬% জমি লেকের জন্য বরাদ্দ করা হয়। এভাবে প্রাকৃতিক জলাশয় পরিকল্পিত লেকে পরিণত হয়।

কখন এবং কিভাবে ধানমন্ডি লেক জনপ্রিয় হয়

যদিও ১৯৬০-এর দশকে লেকটি ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে, কিন্তু ১৯৯৬ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন স্থপতি ইকবাল হাবিবের নেতৃত্বে লেক সংস্কারের উদ্যোগ নিলে এটি নতুন পরিচিতি পায়।
২০০০ সালে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় এবং ২০১১–২০১৩ সালের মধ্যে পুনঃখনন, ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ, আলো, বেড়া, নতুন হাঁটার পথ, পাবলিক টয়লেট, এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বড়সড় সংস্কার হয়।

বর্তমান ধানমন্ডি লেক

আজ লেকটি প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়ক থেকে ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত। সবুজ গাছপালা, পাকা হাঁটার পথ এবং নানা বিনোদনের ব্যবস্থা নিয়ে এটি ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় আউটডোর স্পট।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি – ইতিহাস ও স্বাধীনতার সাথে সম্পৃক্ততা

dhanmondi-32-no-bari

ধানমন্ডি এলাকার ৩২ নম্বর সড়কের এই বাড়িটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের স্থায়ী আবাসস্থল। আজ এটি শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক এবং আমাদের জাতীয় পরিচয়ের এক অমূল্য সম্পদ।

১৯৬০-এর দশক থেকে এই বাড়িটি হয়ে ওঠে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতেন এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করতেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে এখানেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়, যা বাঙালি জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক সূচনা। বাড়িটির প্রতিটি কক্ষ যেন সাক্ষী হয়েছে তৎকালীন রাজনৈতিক আলোচনা, কৌশল নির্ধারণ ও মুক্তির ডাকের।

dhanmondi-32-no-bari-2

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের কালরাতে এই বাড়িটিই পরিণত হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে শোকাবহ ঘটনার স্থানে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর পরিবারসহ এখানেই হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। আজও সেই দেয়াল, সিঁড়ি আর কক্ষগুলো মনে করিয়ে দেয় জাতির এক অমোচনীয় দুঃখের ইতিহাস।

পরবর্তীতে এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত হয়। এখানে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত আসবাবপত্র, বই, ছবি, এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র প্রদর্শিত হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের তাঁর জীবন ও সংগ্রামের কাছাকাছি নিয়ে যায়। বাড়ির প্রতিটি অংশেই ইতিহাসের ছাপ স্পষ্ট—ড্রয়িং রুম, অফিস রুম, এমনকি সেই সিঁড়ি যেখানে ১৯৭৫ সালের নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

আজ ধানমন্ডি ৩২ কেবল একটি জাদুঘর নয়; এটি জাতির ত্যাগ, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার প্রতীক। দেশি-বিদেশি অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এখানে আসেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি স্মরণ করতে এবং আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে।

করণীয় কার্যক্রম (Things to Do in Dhanmondi Lake)

ধানমন্ডি লেক শুধু হাঁটার জন্য নয়, বরং নানা ধরণের বিনোদন, আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সকালের সতেজ পরিবেশ উপভোগ করার জন্য উপযুক্ত। এখানে আসলে আপনার দিন কীভাবে কাটবে, সেটাই নির্ভর করবে আপনি কী করতে চান তার উপর। নিচে ধাপে ধাপে সব কার্যক্রম বর্ণনা করা হলো।

সকালের হাঁটা ও ব্যায়াম

ধানমন্ডি লেক ভোরবেলার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গাগুলির একটি। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে মানুষ এখানে আসেন হাঁটতে, দৌড়াতে বা ব্যায়াম করতে।

  • চারপাশে প্রশস্ত হাঁটার ট্র্যাক রয়েছে যেখানে সকালবেলার শীতল বাতাস, পাখির ডাক এবং গাছপালার সবুজ আপনাকে সতেজ অনুভূতি দেবে।

  • অনেকেই এখানে যোগব্যায়াম ও ব্যায়াম করেন।

  • বয়স্কদের জন্যও এটি এক শান্ত জায়গা যেখানে তারা আড্ডা ও হালকা ব্যায়ামে অংশ নেন।

নৌকা ভ্রমণ (ডিঙ্গি পয়েন্ট)

dhanmondi-lake-boat

ধানমন্ডি লেকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হলো নৌকা ভ্রমণ। এখানে ছোট ডিঙ্গি নৌকা ও প্যাডেল বোটে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে লেকের মাঝখানে ঘুরে বেড়ানো সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা। পানির ওপরে ভেসে থাকা, চারপাশে সবুজের প্রতিফলন দেখা, আর হালকা বাতাসের স্নিগ্ধ স্পর্শ—সব মিলিয়ে এটি ঢাকার ভেতরেই এক ভিন্ন রকম শান্তির স্বাদ দেয়।

  • ২ জনের জন্য নৌকা ভাড়া: ৩০ মিনিটের জন্য ২০০ টাকা।

  • ৪ জনের জন্য নৌকা ভাড়া: ৩০ মিনিটের জন্য ৩০০ টাকা।

ঝুলন্ত সেতু

ধানমন্ডি লেকের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঝুলন্ত সেতু। লেকের দুই প্রান্তকে যুক্ত করা এই সেতুটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এক ধরনের অভিজ্ঞতা। সেতুর উপর দাঁড়ালে মনে হয় আপনি যেন লেকের মাঝখানে ভাসছেন। নিচে স্বচ্ছ পানিতে আশেপাশের সবুজ গাছের প্রতিফলন, আর উপরে খোলা আকাশ—এই দৃশ্য এক অনন্য প্রশান্তি এনে দেয়।

দিনের বেলায় সেতুর চারপাশে মানুষের ভিড় থাকে—কেউ হাঁটছে, কেউ ছবি তুলছে, আবার কেউবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে ভালোবাসেন। সন্ধ্যার পর ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। লেকের চারপাশে লাইট জ্বলে ওঠে, পানির গায়ে ঝিলমিল প্রতিফলন তৈরি হয়, আর সেতুটা রোমান্টিক আবহে ঢেকে যায়।

যারা শহরের কোলাহলের মাঝে একটু শান্তি খুঁজছেন, ঝুলন্ত সেতু তাদের জন্য এক উপযুক্ত জায়গা। এখানে দাঁড়িয়ে লেকের বাতাসে ভেসে থাকা সুরেলা বাঁশির সুর শুনলে মনে হবে আপনি যেন এক ভিন্ন জগতে চলে গেছেন।

ছবি তোলা, ফটোগ্রাফি ও আড্ডা

ধানমন্ডি লেক ফটোগ্রাফারদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। ভোরে সূর্যোদয়ের আলো যখন পানির ওপর পড়ে বা বিকেলের সূর্যাস্ত যখন আকাশকে কমলা রঙে রাঙিয়ে দেয়, তখন লেকের দৃশ্য একেবারেই অন্যরকম হয়ে ওঠে। ঝুলন্ত সেতু, নৌকার প্রতিফলন, সবুজে মোড়ানো গাছপালা—সবই দারুণ ফ্রেম তৈরি করে। অনেকে এখানে এসে প্রকৃতির ছবি তোলেন, কেউবা মানুষের candid ফটোগ্রাফি করেন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য শর্টস বা রিলস বানানোর ক্ষেত্রেও এই জায়গা বেশ জনপ্রিয়।

তবে ধানমন্ডি লেক শুধু ফটোগ্রাফির জায়গাই নয়, বরং আড্ডারও আদর্শ স্থান। লেকের পাশে সারি সারি বেঞ্চ, গাছের ছায়ায় বসার জায়গা এবং নিরিবিলি কোণগুলো আড্ডার জন্য অসাধারণ। ছাত্রছাত্রী, বন্ধুদের দল কিংবা পরিবার—সবার কাছেই এটি আড্ডার প্রিয় জায়গা। কেউ বন্ধুবান্ধব নিয়ে গিটার হাতে গান গায়, আবার কেউ শুধু চুপচাপ বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে। অনেকেই লেকের ধারে বসে গল্প করতে করতে সময়ের খেয়ালই রাখেন না।

সব মিলিয়ে, ধানমন্ডি লেক ফটোগ্রাফি আর আড্ডা—দুটোরই দারুণ সমন্বয়। একদিকে অসাধারণ ছবি তোলার সুযোগ, আরেকদিকে বন্ধু বা প্রিয়জনকে নিয়ে সময় কাটানোর শান্ত পরিবেশ—যা ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে সত্যিই বিরল অভিজ্ঞতা।

রবীন্দ্র সরোবর ও পথশিল্পীদের সুর

Rabindra-Sarobar

ধানমন্ডি লেকের প্রাণকেন্দ্র হলো রবীন্দ্র সরোবর। এটি শুধু একটি খোলা মঞ্চ নয়, বরং ঢাকার সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য এক মিলনমেলা। সারা বছর এখানে গান, নাটক, কবিতা পাঠ ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় দিবস কিংবা বিশেষ উৎসবের সময় রবীন্দ্র সরোবর জমে ওঠে মানুষে মানুষে, সুরে আর উৎসবে। খোলা আকাশের নিচে বসে প্রিয় শিল্পীর গান শোনা বা নাটক উপভোগ করার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম।

কিন্তু রবীন্দ্র সরোবরের আসল সৌন্দর্য কেবল বড় অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই লেকের ধারে ছোট ছোট দলবদ্ধ তরুণদের দেখা মেলে। কেউ গিটার হাতে গান করছে, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে, আবার কেউবা লোকগান পরিবেশন করছে। তাদের চারপাশে জড়ো হয় অনেকে—কেউ দাঁড়িয়ে শোনে, কেউ বেঞ্চে বসে সুরের সঙ্গে হারিয়ে যায়, আবার কেউ ভিডিও করে স্মৃতি ধরে রাখে। বিশেষ করে যখন বাঁশির সুর ভেসে আসে লেকের পানির ওপর দিয়ে, আর তার সঙ্গে মিশে যায় গিটারের ঝংকার ও বাউল গানের সুর—তখন পরিবেশটা একেবারেই জাদুকরী হয়ে ওঠে।

এই স্বতঃস্ফূর্ত সঙ্গীতচর্চা রবীন্দ্র সরোবরকে আলাদা মাত্রা দেয়। এখানে যেন প্রতিদিনই এক ক্ষুদ্র সাংস্কৃতিক উৎসব হয়—যেখানে নেই মঞ্চ, নেই নির্দিষ্ট দর্শক, তবুও সঙ্গীত আর আনন্দে সবাই একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে ধানমন্ডি লেকের এই পরিবেশ মানুষকে কিছু সময়ের জন্য হলেও নতুন উদ্দীপনা ও প্রশান্তি দেয়।

খাবার ও রেস্টুরেন্ট

ধানমন্ডি লেক শুধু ঘোরার জায়গা নয়, এটি ঢাকার মানুষের জন্য আড্ডা ও খাবারের এক অসাধারণ মিলনস্থল। লেকের চারপাশে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ফুড কর্নার রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীরা স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টের খাবার—সবই উপভোগ করতে পারেন।

ডিঙ্গি রেস্টুরেন্ট বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এখানে বসে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি নানা ধরণের কাবাব, গ্রিল ও পানীয় খাওয়া যায়। তাদের বিফ শিক কাবাবের দাম ২৪০ টাকা, আর লাচ্ছি ১৪০ টাকা

অন্যদিকে, রবীন্দ্র সরোবরের পাশের ফুড কর্নারে স্ট্রিট ফুডই সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

  • দই ফুচকা বা রাজকচুরি প্লেটের দাম ১৪০ টাকা

  • সাধারণ ফুচকা ৭০ টাকা

এছাড়া, ধানমন্ডি লেকের ভ্রমণকারীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হলো মাটকা চা ও মালাই চা। মাটির কাপে পরিবেশিত এই চা শুধু স্বাদেই অনন্য নয়, বরং আড্ডার মুহূর্তকেও বিশেষ করে তোলে। এক কাপ চায়ের দাম সাধারণত ৩০ টাকা, আর মালাই চায়ের ওপরে ঘন দুধের আস্তরণ সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

সব মিলিয়ে, ধানমন্ডি লেকের খাবার মানে শুধু ক্ষুধা মেটানো নয়—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা, যেখানে দৃশ্য, আড্ডা আর স্বাদের মেলবন্ধন ঘটে।

দর্শনার্থীদের ভিড় ও পরিবেশ

ধানমন্ডি লেক ঢাকার মানুষের জন্য একটি আড্ডার স্বর্গরাজ্য। ছুটির দিনে এখানে প্রচণ্ড ভিড় হয়। পরিবার, শিশুদের নিয়ে আসা বাবা-মা, বন্ধুর দল, প্রেমিক-প্রেমিকা, এমনকি একা হাঁটতে আসা মানুষ—সবাইকে এখানে দেখা যায়। বিকেলবেলা লেকপাড়ে ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। তখন চারপাশে শিশুদের হাসি-খেলা, তরুণদের আড্ডা, আবার কেউ বেঞ্চে বসে নিরিবিলি সময় কাটায়।

তবে সপ্তাহের মাঝের দিনগুলো তুলনামূলকভাবে শান্ত। সকালে হাঁটার সময় লেক ভরে ওঠে দৌড়বিদ, স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এবং বয়স্কদের আড্ডায়। পরিবেশটি প্রাণবন্ত হলেও শান্তির ছোঁয়াও রয়েছে। বিশেষ করে লেকের চারপাশে সবুজ গাছপালা আর পানির ওপর আলো-ছায়ার খেলা মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

যাতায়াত ও অবস্থান

ধানমন্ডি লেকের অবস্থান ঢাকার কেন্দ্রস্থলে, ধানমন্ডি এলাকায়। শহরের যেকোনো জায়গা থেকে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। বাস, সিএনজি, রিকশা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি—সব ধরনের যানবাহনের মাধ্যমেই আসা সম্ভব। লেকটি ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়ক থেকে শুরু হয়ে ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত, তাই বিভিন্ন প্রবেশপথ রয়েছে।

গুগল ম্যাপে “Dhanmondi Lake” সার্চ করলে সঠিক লোকেশন পাওয়া যায় এবং এটি পর্যটকদের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক। কাছাকাছি বড় ল্যান্ডমার্ক হলো ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি (বঙ্গবন্ধু ভবন), যা থেকে হেঁটে বা রিকশায় কয়েক মিনিটেই লেকের ভেতরে পৌঁছানো যায়।

ভ্রমণ টিপস ও নিরাপত্তা পরামর্শ

ধানমন্ডি লেক ঘুরতে আসার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। সকালে কিংবা বিকেলের সময় ভ্রমণ করাই ভালো, কারণ তখন লেকের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায় এবং পরিবেশও প্রাণবন্ত থাকে। তবে রাত গভীর পর্যন্ত লেকে অবস্থান করা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ তখন কিছুটা নির্জনতা তৈরি হয়, যা নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।

আরেকটি অস্বাভাবিক দৃশ্য যা মাঝে মাঝে চোখে পড়ে, সেটি হলো কিছু তরুণীর প্রকাশ্যে ধূমপান করা। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি সাধারণত স্বাভাবিক নয়, এবং পরিবার বা শিশুদের সঙ্গে আসা অনেক দর্শনার্থীর কাছে এটি অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় আসা অনেক বেশি উপযুক্ত।

লেক এলাকায় পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা পাবলিক ওয়াশরুম রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য একটি বড় সুবিধা। এছাড়া, নৌকায় ওঠার সময় নিরাপত্তা মেনে চলা এবং শিশুদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি।

সবশেষে, ধানমন্ডি লেক ভ্রমণের সেরা অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে হালকা খাবার, পানীয় এবং ক্যামেরা সঙ্গে নিতে ভুলবেন না—কারণ এখানে কাটানো মুহূর্তগুলো সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই ব্লগপোস্টটি লেখা হয়েছে জুন থেকে আগস্ট ২০২৫ এর মধ্যে। এখানে উল্লেখিত খাবারের দাম (যেমন বিফ শিক কাবাব ২৪০ টাকা, লাচ্ছি ১৪০ টাকা, দই ফুচকা ও রাজকচুরি ১৪০ টাকা, সাধারণ ফুচকা ৭০ টাকা, চা ৩০ টাকা ইত্যাদি) এবং নৌকা ভ্রমণের ভাড়া (২ জনের জন্য ২০০ টাকা, ৪ জনের জন্য ৩০০ টাকা) সেই সময়কার উপর ভিত্তি করে উল্লেখ করা হয়েছে।ভবিষ্যতে দাম বাড়তে বা কমতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে সাম্প্রতিক মূল্য যাচাই করে নেওয়া ভালো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here