ঢাকার খাবার সংস্কৃতিতে এখন স্টেক হাউজের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। আগে যেখানে ফাস্ট ফুড বা বার্গার বেশি প্রাধান্য পেত, সেখানে এখন অনেক তরুণ-তরুণী ও পরিবাররা স্টেক হাউজকে বেছে নিচ্ছেন বিশেষ দিন বা আড্ডার জন্য। ধানমন্ডি এই ক্ষেত্রে একটি হটস্পট—এলাকাজুড়ে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট থাকলেও লোন স্টার স্টেকহাউজ বিশেষভাবে আলোচনায় আছে তাদের ভিন্ন ধাঁচের পরিবেশ, বড় সাইজের স্টেক এবং ভ্যালু ফর মানি অভিজ্ঞতার কারণে।
আমাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ছিল একেবারে নতুন। সত্যি বলতে, এটাই ছিল আমাদের জীবনের প্রথম স্টেক খাওয়ার অভিজ্ঞতা, আর সেই উত্তেজনা আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। নতুন কিছু ট্রাই করার মধ্যে সবসময় একটা কৌতূহল থাকে—স্বাদ কেমন হবে, সাইজ যথেষ্ট কিনা, আর পরিবেশটা আসলে কেমন? এই রিভিউতে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি আমাদের সেই প্রথম অভিজ্ঞতা, যেখানে আমরা পরিবেশ, খাবারের মান, দামের তুলনা—সবকিছু বিস্তারিত বলব।
এই Lone Star Steakhouse–এর ভিজিট আমরা ভিডিওতেও ধারণ করেছি। যদি আপনি পুরো অভিজ্ঞতাটা ভিজ্যুয়ালি দেখতে চান, তাহলে নিচে ক্লিক করে ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন:
রেস্টুরেন্টের অবস্থান ও প্রথম ধারণা

রেস্টুরেন্টটি ধানমন্ডি ১১/A নম্বর রোডে অবস্থিত, ঠিকানা—২য় তলা, হাউস নম্বর ৯৯, সাতমসজিদ রোড, ঢাকা ১২০৯। লোকেশনটা খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়, বিশেষ করে যারা ধানমন্ডির সাথে পরিচিত তাদের জন্য। আশেপাশে ব্যস্ত রাস্তা থাকলেও ভেতরে ঢুকলেই আলাদা একটা পরিবেশ তৈরি হয়।
লোন স্টার স্টেকহাউজের প্রবেশদ্বারটা প্রথম দেখায় খুব একটা ফ্যান্সি মনে হয় না। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় একটু পুরনো ধরনের বিল্ডিং, যেটা বিশেষভাবে আকর্ষণীয় না হলেও ভেতরে ঢুকলে ধীরে ধীরে অন্যরকম অনুভূতি তৈরি হয়। লোকেশনটা ধানমন্ডির ব্যস্ত এলাকায় হলেও, ভেতরের পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত এবং কম ভিড়যুক্ত। যারা শহরের ভিড়ভাট্টার বাইরে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে একটু নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটা একটা ভালো অপশন।
এ জায়গার আরেকটা বিশেষ সুবিধা হলো এর দীর্ঘ সময় খোলা থাকা। রেস্টুরেন্টটি রাত অনেকটা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং লাস্ট অর্ডার রাত ১টা পর্যন্ত নেয়া হয়। ঢাকায় রাতের বেলায় ভালো খাবারের অপশন খুব একটা নেই, তাই যারা লেট নাইটে আড্ডা দিতে বা খাবার খেতে চান, তাদের জন্য লোন স্টার হতে পারে একদম সঠিক পছন্দ।
ভেতরের পরিবেশ ও অভ্যর্থনা

ভেতরে ঢুকলেই ইন্টেরিয়র আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। যদিও একটু স্মোকি ভিব ছিল, তবুও সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং লাইটিং মিলিয়ে একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। বড় গ্রুপ বা পরিবার নিয়ে বসার মতো জায়গা আছে, আবার ছোট টেবিলও রয়েছে যেগুলো ফ্রেন্ডস হ্যাংআউট বা কাপলদের জন্য পারফেক্ট।

এখানে একটা আলাদা সেলফি জোন রয়েছে, যেখানে আপনি সেলফি তুলতে পারবেন। মজার বিষয় হলো, তারা অতিথিদের জন্য হ্যাট সরবরাহ করে, যেগুলো পরে ছবি তুললে আলাদা একটা ফান vibes তৈরি হয়। এছাড়াও রেস্টুরেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ডেকোরেশন হলো গরুর আকৃতির শেপ, যেখানে বোঝানো থাকে কোন অংশ থেকে কোন স্টেক কাটা হয়। এটা অনেকটা এডুকেশনালও, কারণ প্রথমবার স্টেক খাওয়া মানুষও সহজেই বুঝতে পারবেন কোন অংশ তারা অর্ডার করেছেন।

স্টাফদের ব্যবহারের কথাও আলাদাভাবে বলতে হয়। তারা খুবই সহায়ক এবং বন্ধুসুলভ। প্রথমবার স্টেক খাওয়ায় আমাদের কোনটা ভালো হতে পারে বা কোনটা বেশি জনপ্রিয় সেটা নিয়ে তারা বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়েছিলেন। মেনু ট্যাব ব্যবহার করে অর্ডার করার সময়ও তারা আমাদের হেল্প করেছিলেন। খাবারের অর্ডার দেয়ার পর তারা আমাদেরকে একটি ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক পরিবেশন করেছিলেন, যেটা ভিজিটের শুরুটা অনেকটা ফ্রেশ করে দিয়েছিল।
সংক্ষেপে বলা যায়, বাইরে থেকে তেমন আকর্ষণীয় না হলেও ভেতরে ঢুকলেই একটা আরামদায়ক, ফ্যামিলি-ফ্রেন্ডলি ভিব পাওয়া যায়। কম ভিড়, রাত অবধি খোলা থাকা, সেলফি জোন আর স্টাফদের আন্তরিক ব্যবহার—সব মিলিয়ে প্রথম ধারণাটা ইতিবাচকই হবে।
👉 ধানমন্ডির Dosa Express রিভিউ পড়ুন এখানে: ধানমন্ডির Dosa Express রিভিউ
মেনু ও অর্ডার করার প্রক্রিয়া
লোন স্টার স্টেকহাউজে ঢুকেই প্রথম যে বিষয়টি একটু আলাদা মনে হয়, সেটি হলো এখানে কোনো হার্ডকপি মেনু নেই। বরং তারা একটি ট্যাবলেট সরবরাহ করে, যেখানে ডিজিটাল মেনুতে সবকিছু সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। এই পদ্ধতিটি অনেক আধুনিক এবং ব্যবহারবান্ধব—কারণ প্রতিটি আইটেমের সাথে ছবি, বর্ণনা এবং দাম স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ট্যাবে ব্রাউজ করার সুবিধা
ট্যাব ব্যবহার করার সুবিধা হলো, একে একে পুরো মেনুটি চোখের সামনে স্ক্রল করে দেখা যায়। কোন আইটেমে কী ধরনের মাংস ব্যবহৃত হয়েছে, কতটা ওজন বা গ্রাম অনুযায়ী পরিবেশন করা হবে—এসব তথ্য সহজেই বোঝা যায়। ফলে অর্ডার দেওয়ার সময় বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ছবি দেখে অনেকটাই আন্দাজ করা যায় কোন খাবারের প্রোপোরশন কেমন হতে পারে।

অর্ডার দেওয়ার সময় স্টাফদের গাইডেন্স
প্রথমবার স্টেক খাওয়ার অভিজ্ঞতা যাদের, তাদের জন্য স্টাফদের গাইডেন্স অনেক বড় ভূমিকা রাখে। লোন স্টারের স্টাফরা খুবই সহায়ক। তারা মেনুর জনপ্রিয় আইটেমগুলো সাজেস্ট করে দেন, যেমন কোন স্টেক বেশি জুসি, কোনটা মিডিয়াম রেয়ার খাওয়া ভালো, অথবা কারো জন্য কোনটা হেভি মনে হতে পারে।
আমাদের ক্ষেত্রে তারা ধৈর্য ধরে ব্যাখ্যা করেছিলেন T-bone Steak আর Ribeye Steak–এর পার্থক্য, এবং কোনটা নিলে সাইড ডিশসহ দুই জনের জন্য যথেষ্ট হবে। এছাড়াও, প্রন অর্ডার দেওয়ার সময়ও তারা ব্যাখ্যা করেছিলেন এটি চীজ-স্টাফড, যাতে অতিথিরা আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা পান।
অর্ডার দেওয়ার পর ট্যাবেই কনফার্মেশন হয়, এবং তারপর রান্নাঘরে পাঠানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটাই অনেকটা স্মার্ট ও ঝামেলাহীন।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল মেনু সিস্টেম ও স্টাফদের গাইডেন্স লোন স্টারে অর্ডার করার অভিজ্ঞতাকে করেছে সহজ, আধুনিক এবং ঝামেলাহীন।
খাবার পরিবেশন প্রক্রিয়া
Lone Star Steakhouse খাবার পরিবেশনের ধরণটা বেশ আলাদা এবং একটু আনুষ্ঠানিকতার ছোঁয়া আছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার স্টেক খাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি বেশ ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়।

স্টেক রান্নার আগে কাঁচা অবস্থায় দেখানো
অর্ডার দেওয়ার পর ওরা প্রথমেই আপনার নির্বাচিত স্টেকের কাঁচা মাংসের অংশটি নিয়ে এসে দেখায়। এতে করে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন, ঠিক কোন কাট অংশ আপনার জন্য রান্না করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্টেকের ফ্রেশ কোয়ালিটি সম্পর্কেও চোখের সামনে ধারণা পাওয়া যায়।
মডিফিকেশনের সুযোগ
স্টেক রান্নার আগে গ্রাহককে জিজ্ঞেস করা হয় কীভাবে রান্না চান—যেমন:
- Rare
- Medium Rare
- Medium
- Medium Well
- Well Done
এখানে অতিথিদের ইচ্ছেমতো মডিফিকেশন করার সুযোগ থাকে। ফলে কেউ চাইলে সফট ও জুসি টেক্সচারের স্টেক নিতে পারেন, আবার কেউ চাইলে একেবারে ভালোভাবে রান্না করা স্টেকও পেতে পারেন। প্রথমবার স্টেক খাওয়া মানুষদের জন্য স্টাফরা সাধারণত মিডিয়াম বা মিডিয়াম রেয়ার রেকমেন্ড করে থাকেন, যাতে স্বাদের আসল ফ্লেভার পাওয়া যায়।

পরিবেশনের ধরন
স্টেক রান্না হয়ে গেলে তা সুন্দরভাবে প্লেটেড অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। সাথে থাকে সাইড ডিশ—যেমন মেক্সিকান রাইস, ম্যাশ পটেটো, কোলস্লো, সটে ভেজিটেবল বা মাশরুম। এছাড়াও থাকে দুই ধরনের সস, যেগুলো স্টেকের স্বাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
খাবার প্লেটিং সাধারণভাবে খুব সাজানো-গোছানো, বড় প্লেটে স্টেককে সেন্টার পজিশনে রেখে চারপাশে সাইড ডিশ সাজানো থাকে
সব মিলিয়ে, লোন স্টার স্টেকহাউজ খাবার পরিবেশনের প্রক্রিয়াটিকে করেছে গ্রাহকবান্ধব ও অভিজ্ঞতামূলক। রান্নার আগে স্টেক দেখানো, মডিফিকেশনের সুযোগ এবং সাজানো পরিবেশনা—সবকিছু মিলিয়ে এখানে স্টেক খাওয়ার অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য হয়।
খাবারের স্বাদ ও অভিজ্ঞতা
T-bone Steak
Lone Star Steakhouse–এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় আইটেমগুলোর মধ্যে একটি হলো T-bone Steak। এর দাম প্রায় ২৬৯০ টাকা, যা ঢাকার অন্যান্য স্টেকহাউজের তুলনায় মাঝারি দামের বলা যায়।

স্বাদের দিক থেকে বললে, T-bone Steak আমাদের কাছে ভালোই লেগেছিল, তবে এটাকে একেবারে অসাধারণ বলা যাবে না। টেক্সচার ছিল খানিকটা শক্ত, মানে খুব বেশি সফট বা জুসি মনে হয়নি। তবে সাথে দেওয়া সাইড ডিশগুলো পুরো অভিজ্ঞতাকে অনেকটা ব্যালেন্স করে দিয়েছিল। বিশেষ করে Mexican Rice–এর ফ্লেভারটা ভালো লেগেছিল—হালকা স্পাইসি এবং নরম রাইস স্টেকের সাথে সুন্দরভাবে ম্যাচ করেছিল। Coleslaw–ও ফ্রেশ ছিল, যেটা মাংসের ভারী স্বাদের সাথে হালকা রিফ্রেশিং কনট্রাস্ট তৈরি করে।
স্টেকের সাথে দেওয়া দুই ধরনের সস—একটা ছিল একটু ট্যাঙ্গি আরেকটা একটু ক্রিমি—স্বাদে বৈচিত্র্য এনেছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে সসগুলো আরও একটু রিচ হতে পারত। সবমিলিয়ে, T-bone Steak ভালো ছিল, কিন্তু প্রথম অভিজ্ঞতার জন্য এটাকে সেরা বলা যাবে না।
Ribeye Steak – আমার ব্যক্তিগত রেকমেন্ডেশন
আমাদের দ্বিতীয় অর্ডার ছিল Ribeye Steak, যার দাম প্রায় ২৫৮০ টাকা। সত্যি বলতে, এটিই আমাদের অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করেছে। এই স্টেকের টেক্সচার ছিল অনেক বেশি নরম ও জুসি। প্রতিটি কামড়েই মনে হচ্ছিল মাংসটা মুখে গলে যাচ্ছে।

সাথে পরিবেশিত Mashed Potato ছিল একেবারে ক্রিমি এবং স্মুথ, যেটা Ribeye Steak–এর সাথে দারুণ মানিয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও sautéed vegetables ছিল হালকা কড়া ভাজা, তাই এগুলোতে ফ্রেশ টেস্ট ছিল। বিশেষ করে mushrooms–গুলো স্বাদের দিক থেকে আলাদা লেভেলের ছিল—নরম, হালকা বাটারি ফ্লেভার আর জুসি টেক্সচার সব মিলিয়ে একেবারে পারফেক্ট।
আমার ব্যক্তিগত রিভিউ অনুযায়ী, যদি কেউ প্রথমবার Lone Star Steakhouse–এ যায়, তাহলে Ribeye Steak অবশ্যই রেকমেন্ড করব। স্বাদ, টেক্সচার এবং সাইড ডিশ—সব দিক থেকেই এটা অনেক বেশি উপভোগ্য ও ভ্যালু ফর মানি মনে হয়েছে।
Cheese-Stuffed Prawn – কখনো অর্ডার করবেন না
আমাদের তৃতীয় আইটেম ছিল Cheese-Stuffed Prawn। নাম শুনে মনে হয়েছিল বড় প্রনের ভেতরে চীজ স্টাফ করা হবে, কিন্তু পরিবেশন আসার পর সেটি আমাদের জন্য হতাশাজনক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বাহ্যিকভাবে এটি বড় প্রনের শেল বা কাঠামোর মতো লাগছিল, কিন্তু আসলে ভেতরে খুব সামান্য পরিমাণ প্রন ছিল, বাকিটা শুধু গলে যাওয়া চীজ দিয়ে ভর্তি। ফলে স্বাদের দিক থেকে এটি একেবারেই প্রনের মতো লাগছিল না। বরং মনে হচ্ছিল আমরা চীজ বল বা চীজ স্টাফড কোনো ভিন্ন খাবার খাচ্ছি।
প্রনপ্রেমীদের জন্য এটি সত্যি বড় ধরনের হতাশা হতে পারে। তাই আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলব, Lone Star Steakhouse–এ গেলে Cheese-Stuffed Prawn কখনো অর্ডার করবেন না। এর দাম যেমন তুলনামূলক বেশি, স্বাদও তার সাথে মানানসই নয়।
সংক্ষেপে বললে, Lone Star Steakhouse–এর T-bone Steak ভালো, Ribeye Steak অসাধারণ এবং Cheese-Stuffed Prawn পুরোপুরি হতাশাজনক। প্রথমবার স্টেক খাওয়ার অভিজ্ঞতার জন্য আমি Ribeye Steak–ই বেছে নিতে বলব।
প্রোপোরশন ও সাইজ
Lone Star Steakhouse–এর স্টেকের প্রোপোরশন ও সাইজ নিঃসন্দেহে সন্তোষজনক। আমরা যখন প্রথমবার অর্ডার করলাম, আমাদের মধ্যে একটা কনফিউশন ছিল—একটি স্টেক কি একজনের জন্য যথেষ্ট, নাকি শেয়ার করা যাবে? কিন্তু অভিজ্ঞতার পর আমরা বুঝতে পারলাম, একটি পূর্ণ স্টেক সহজেই দুইজন মিলে শেয়ার করে খাওয়া যায়, বিশেষ করে যখন সাইড ডিশসহ পরিবেশন করা হয়।

স্টেকের পরিমাণ
প্রতিটি স্টেকের ওজন সাধারণত ৩০০–৪০০ গ্রাম এর আশেপাশে, যা একজনের জন্য অনেকটাই হেভি হয়ে যায়। তাই যদি আপনারা গ্রুপে যান, তাহলে দুইজন মিলে একটি স্টেক নিয়ে অন্য কোনো আইটেম (যেমন প্রন বা অন্য সাইড) ট্রাই করতে পারেন। এতে স্বাদও ভ্যারাইটি আসবে, আবার দামটাও একটু বেশি ভ্যালু ফর মানি মনে হবে।
সাইড ডিশের পরিমাণ
প্রতিটি স্টেকের সাথে আলাদা আলাদা সাইড ডিশ আসে—যেমন Mexican Rice, Mashed Potato, Coleslaw, Sautéed Veggies বা Mushrooms। এগুলোর পরিমাণ একজনের জন্য যথেষ্ট, আবার দুইজন মিলে খাওয়ার মতোও। বিশেষ করে ম্যাশ পটেটো আর সটে মাশরুম এতটাই রিচ ও ফিলিং ছিল যে, আমাদের মনে হয়েছে এক স্টেক দুইজনের জন্য যথেষ্ট।
দাম ও বাজেট বিশ্লেষণ
Lone Star Steakhouse–এ স্টেক খাওয়ার অভিজ্ঞতাটা যেমন বিশেষ, তেমনি এর দাম ও বাজেট নিয়ে আগে থেকে ধারণা থাকা জরুরি।
দাম
- T-bone Steak: প্রায় ২৬৯০ টাকা
- Ribeye Steak: প্রায় ২৫৮০ টাকা
- Cheese-Stuffed Prawn: তুলনামূলক বেশি দামি, কিন্তু মানের দিক থেকে হতাশাজনক
প্রতিটি স্টেকের দাম একজনের জন্য অনেক বেশি মনে হতে পারে, কিন্তু প্রোপোরশন ও সাইজ বিবেচনা করলে এটি দুইজন মিলে শেয়ার করার মতো।

জনপ্রতি খরচ
আমরা যখন পাঁচজন গিয়েছিলাম, তিনটি ডিশ অর্ডার করেছিলাম। মোট বিল দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৬৮০০ টাকা। তবে তারা আমাদেরকে ৩৬% ডিসকাউন্ট দিয়েছিল, ফলে খরচটা জনপ্রতি হিসেবে প্রায় ১০০০–১২০০ টাকার মতো পড়ে।
ঢাকার অন্যান্য ফাইন-ডাইন স্টেক হাউজের তুলনায় এটা মোটামুটি সাশ্রয়ী। বিশেষ করে যারা গ্রুপে যান, তাদের জন্য খরচটা আরও ব্যালেন্সড হয়ে যায়।
ভ্যালু ফর মানি
Lone Star Steakhouse–এ প্রতিদিন যাওয়ার মতো জায়গা নয়, কারণ দামটা তুলনামূলক বেশি। তবে বিশেষ দিন, উইকএন্ড আউটিং, অথবা ফ্রেন্ডস হ্যাংআউটের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ভ্যালু ফর মানি অপশন। Ribeye Steak–এর স্বাদ ও মান বিবেচনায় এই দাম যথেষ্ট ন্যায্য মনে হয়েছে।
লেট নাইট অপশন
আরেকটি বাড়তি সুবিধা হলো—এখানে রাত ১টা পর্যন্ত লাস্ট অর্ডার নেয়া হয়। তাই যদি কখনো লেট নাইটে ভালো মানের খাবার খেতে চান, তখন বাজেটের দিক থেকে Lone Star Steakhouse একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে।
খারাপ লাগার দিক
যতই Lone Star Steakhouse–এর ইতিবাচক দিক থাকুক না কেন, কিছু কিছু জিনিস consider করতে হবে।
- স্মোকি অ্যাটমস্ফিয়ার – ভেতরে সামান্য ধোঁয়াটে পরিবেশ ছিল, যা কিছুটা অস্বস্তিকর।
- Cheese-Stuffed Prawn – বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও ভেতরে সামান্য চিংড়ি আর বাকিটা চীজ দিয়ে ভর্তি হওয়ায় এটি হতাশাজনক।
- তুলনামূলক বেশি দাম – প্রতিদিনের জন্য উপযুক্ত নয়, বরং বিশেষ উপলক্ষের জন্য মানানসই।
- Enterance-এর সাদামাটা চেহারা – বাইরে থেকে রেস্টুরেন্ট খুব একটা প্রিমিয়াম লাগে না।
- পার্কিং সমস্যা – ধানমন্ডির ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। যারা গাড়ি নিয়ে যান, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের অসুবিধা হতে পারে।
আরেকটি অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, এখনকার ডিজিটাল যুগে যেখানে প্রায় সব রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থাকে, সেখানে Lone Star Steakhouse-এর কোনো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ নেই (২০২৫ পর্যন্ত)। সরাসরি অনলাইনে অর্ডার করার সুযোগ না থাকা আসলেই আশ্চর্যজনক। বিশেষ করে এতো বড় ও জনপ্রিয় স্টেকহাউজের জন্য এটি সত্যিই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। আজকের দিনে একটা রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট না থাকা অনেকটাই অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা বলা যায়।
Note: আমরা Lone Star Steakhouse ভিজিট করেছি জুলাই ২০২৫–এ। তাই এখানে যেসব দাম উল্লেখ করেছি, তা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে আমরা যে ৩৬% ডিসকাউন্ট পেয়েছিলাম, সেটা পরবর্তীতে সবসময় পাওয়া নাও যেতে পারে। তাই যারা ভবিষ্যতে যাবেন, তাদের জন্য খরচ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে—এটা মাথায় রাখাই ভালো।



