বাংলাদেশে কাচ্চি বিরিয়ানির যাত্রা শুরু হয়েছিল মোগল আমলে। এটি তখন মূলত অভিজাতদের খাবার ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সাধারণ মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৬১০ সালে যখন ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হয়, তখন মোগল শাসকদের সাথে আসা দক্ষ বাবুর্চিরা এই খাবারটি ঢাকায় আনেন। এর পর থেকেই কাচ্চি বিরিয়ানি ধীরে ধীরে বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে স্থানীয় উৎসব পর্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে কাচ্চি বিরিয়ানি মানেই একটা আলাদা আবেগ। আমাদের উপমহাদেশে এই “Bashmati Kacchi” ধীরে ধীরে একদম ফেমাস হয়ে উঠেছে তার সুগন্ধি বাসমতি চাল আর মশলার অনন্য সমাহারের জন্য। আর এই কাচ্চির জনপ্রিয়তা কিন্তু একদিনে হয়নি— বছরের পর বছর ধরে এর স্বাদ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

আজ আমরা এই ব্লগে আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি সুলতান’স ডাইনে (Sultan’s Dine), যারা দাবি করে যে তাদের খাবার হলো সুলতানি আমলের স্বাদ এবং তারাই শহরের সেরা কাচ্চি পরিবেশন করে। আমরা আজ এ টু জেড সবকিছু দেখব—তাদের বাসমতি কাচ্চি, বিফ চাাপ পোলাও, মটন তেহারি, এবং অন্যান্য আইটেমের স্বাদ ও দাম সম্পর্কে আলোচনা করব। আশা করি ব্লগটি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
Lone Star Steakhouse রিভিউ পড়ুন – One of the best places for juicy steaks in town!
Dosa Express রিভিউ পড়ুন – South Indian flavors right here in Dhaka!
ইচ্ছা করলে আপনারা নিচে দেওয়া ভিডিও লিংক থেকেও পুরো ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন
Sultan’s Dine ঢাকার একটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট চেইন, যারা এই Bashmati Kacchi পরিবেশন করে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। যদিও তাদের ওয়েবসাইটে সুনির্দিষ্ট তারিখ নাও থাকতে পারে, সাধারণত তারা ২০১৫ সালের দিক থেকে এই ব্যবসা চালাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে তাদের নাম ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে।
Ambience and Interior

আমরা গিয়েছিলাম Sultan’s Dine-এর ধানমন্ডি ব্রাঞ্চে, যা জিগাতলার কাছেই অবস্থিত। এই শাখার ইন্টেরিয়র সত্যিই খুব সুন্দর আর অ্যাম্বিয়েন্স পুরোপুরি ফ্যামিলি-ফ্রেন্ডলি। বসার ব্যবস্থা আরামদায়ক, হালকা মিউজিক, সব মিলিয়ে একটা চমৎকার পরিবেশ। শুধু ছুটির দিন বা বিকেলে একটু ভিড় থাকে, তাই টেবিলের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আরেকটা ভালো দিক হলো, স্টাফদের ব্যবহার। তারা সত্যিই খুব সহযোগী এবং কো-অপারেটিভ, আমাদের অর্ডারের ক্ষেত্রে খুব আন্তরিক ছিলেন। তাই সার্ভিসটাও বেশ ভালো লেগেছে।
মেনু আইটেমস / Menu Items
এখানে Sultan’s Dine-এর মেনুতে দেখা যাবে যে তাদের মূল আকর্ষণ অবশ্যই বাশমতি কাচ্চি। কাচ্চি ছাড়াও রিসেন্টলি তারা চালু করেছে Beef Chap Pulao এবং Mutton Tehari।
Basmati Kacchi

আসুন এবার বাসমতি কাচ্চির প্রসঙ্গে। সুলতান ডাইনের এখানে মূলত তিন ধরনের অপশন আছে। প্রথমত, সিঙ্গেল প্ল্যাটার (১:১) যেটার দাম ৪৯৯ টাকা বা বলা যায় ৫০০ টাকা। এতে আপনি মোটামুটি ৪ পিস ভালো মানের মাটন পাবেন। এর পাশাপাশি তিন জনের এবং পাঁচ জনের বড় প্ল্যাটারও আছে, যেখানে প্রতি জনে তিন পিস করে মাটন পাবেন।
স্বাদের দিক থেকে বলতে গেলে, খুবই ভালো স্বাদ পাওয়া যায়। কিছু কিছু সময় নিচের অংশে কাচ্চির একটু তেতো স্বাদ লাগতে পারে, তবে মাটনের নরমভাব, আলুর সফটনেস—সব কিছুই বেশ পারফেক্ট ছিল। প্রোপোর্শন এবং সাইজের দিক থেকেও ঠিকঠাক আছে। সিঙ্গেল প্যাক ১:১ হলেও দুইজন সহজেই খেতে পারে, তিন জনের প্ল্যাটার চার জনের জন্যও যথেষ্ট, আর পাঁচ জনের প্ল্যাটার প্রায় ছয়-সাত জন পর্যন্ত ম্যানেজ করা যায়। দাম একটু বেশি মনে হতে পারে, তবে যেহেতু ভাগ করে খাওয়া যায়, তাই মোটামুটি ব্যালান্সড বলা যায়।
Beef Chap Pulao

এরপর আসি বিফ চাাপ পোলাও নিয়ে। এটি মূলত বড় সাইজের গরুর মাংসের টুকরো, যা প্রচুর মশলা এবং বেশ স্পাইসি করে রান্না করা হয়। এটা সাধারণত প্লেন পোলাওয়ের সাথে পরিবেশন করা হয়ে থাকে এবং এর দাম পড়ে ২২০ টাকা। প্রোপোরশন ও সাইজ অনুযায়, দুজন মিলে একটি অর্ডার করে খেতে পারেন।
স্বাদের দিক থেকে বলতে গেলে, এটি সত্যিই অনেক স্পাইসি— মানে যারা স্পাইস পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি ভালোই লাগবে। তবে আমার জন্য এটা একটু বেশি মশলাদার লেগেছে, কারণ অতিরিক্ত মশলার কারণে এর মধ্যে একটু তেতো ভাব চলে এসেছে। তবে আমার কিছু বন্ধু এটাকে বেশ পছন্দ করেছে। তাই যারা স্পাইস লাভার, তাদের জন্য ভালো, কিন্তু যারা কম স্পাইস পছন্দ করেন, তাদের জন্য হয়তো এটি অতটা উপভোগ্য নাও হতে পারে।
Mutton Tehari

এবার আসি তাদের মটন তেহারির প্রসঙ্গে। এটি বেশ ভালো ছিল এবং ছোট ছোট মটনের পিস and প্রোপোরশন সাইজও মোটামুটি ভালোই, যদিও বাসমতি কাচ্চির তুলনায় এটা একটু ছোট মনে হয়েছে। আমরা এখানে হাফ প্লেট (৳২৫০) করে নিয়েছিলাম, তাই প্রোপোরশনটা একটু কম মনে হয়েছে। পুরো প্লেটের দাম ৳৪৪০।
তবে স্বাদের দিক থেকে বলতে গেলে, মটন তেহারিটা সত্যিই ভালো লেগেছে। অনেক রেস্টুরেন্টে মটন তেহারিতে অতিরিক্ত সরিষার তেলের গন্ধ থাকে, কিন্তু এখানে সেই অতিরিক্ত গন্ধ নেই। সবকিছু বেশ ব্যালেন্সডভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেটা স্বাদকে আরামদায়ক করেছে। মোটকথা, মটন তেহারিটা বেশ উপভোগ্য লাগল।
Borhani (বোরহানি)

সুলতান ডাইনের বোরহানি সাধারণত মশলাদার ধরনের হয়ে থাকে। Personally, আমি অতিরিক্ত মশলাদার বোরহানি তেমন পছন্দ করি না — তাই আমার কাছে এটি তেমন ভালো লাগেনি। তবে যারা একটু strong ও spicy বোরহানি পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি ভালো লাগতে পারে।
Chicken Jali Kebab (চিকেন জালি কাবাব)

এই আইটেমটি আমার কাছে সত্যিই ভালো লেগেছে।বেশিরভাগ কাবাবে শুকনোভাব থাকে, কিন্তু এটি মসলা ও চিকেনের ব্যালেন্সের কারণে বেশ টেস্টি লেগেছে। যারা কাচ্চির সাথে সাইডে কিছু খেতে চান, তাদের জন্য এটি দারুণ অপশন।
Firni (ফিরনি) – Soft, sweet, and satisfying!

ফিরনিটি ছিল একদম পারফেক্ট টেক্সচারে। না বেশি পাতলা, না বেশি ঘন — ঠিক যেটা হওয়া উচিত। এতে চিনি ছিল ব্যালেন্সড পরিমাণে, এবং একটু ঘি বা কেওড়া জলের হালকা ঘ্রাণও ছিল, যা খেতে আরামদায়ক। খাবারের শেষে যারা একটু মিষ্টি খেতে চান, তাদের জন্য ফিরনি একটি must-try আইটেম।
এই রিভিউটি করা হয়েছে ৫ই সেপ্টেম্বর (September 5, 2025), তাই এখানে দেওয়া প্রতিটি আইটেমের দাম সেই দিনের অনুযায়ী। ভবিষ্যতে দাম কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
এই দামগুলো ভবিষ্যতে পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ আপডেটেড মেনু ও দাম জানতে ভিজিট করুন: https://sultansdinebd.com



